ইতিহাসের আলোয় আমাদের 'গোপাল ভাঁড়'

 ইতিহাসের আলোয় আমাদের 'গোপাল ভাঁড়'


বাংলার লোকসাহিত্যের আকাশে এমন কিছু চরিত্র আছেন, যাঁরা ইতিহাসের পাতার চেয়ে মানুষের স্মৃতিতে বেশি জীবন্ত। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম নিঃসন্দেহে গোপাল ভাঁড়। বাঙালির হাসি, বুদ্ধি, ব্যঙ্গ ও উপস্থিতবুদ্ধির প্রতীক হয়ে তিনি আজও সমানভাবে বেঁচে আছেন শিশুদের গল্পে, গ্রামীণ আড্ডায়, লোককথায় এবং বইয়ের পাতায়। অথচ বিস্ময়ের বিষয়, যাঁকে নিয়ে এত গল্প, এত কৌতুক, এত কিংবদন্তি—তাঁর বাস্তব অস্তিত্বই আজও প্রশ্নের মুখে।

প্রচলিত আছে, গোপাল অল্প বয়সেই পিতৃহারা হন। পরিবার ছিল দরিদ্র। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। অনেকের মতে, তিনি জাতিতে ছিলেন ‘নাই’ বা নাপিত। বাংলার লোকসমাজে নাপিতদের ধূর্ত, বুদ্ধিমান ও বাকপটু বলে মনে করা হতো। তবে গোপালকে কেবল নাপিত বলে চিহ্নিত করা কঠিন। কারণ তাঁর জীবনের কোথাও নাপিতগিরির কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনার সন্ধান পাওয়া যায় না। বরং তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তাই তাঁকে বাংলার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ বিদূষক বা ভাঁড়ের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গোপাল ভাঁড়ের গল্প বহুদিন ধরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে লোকমুখে প্রচলিত ছিল। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে উনিশ শতকের প্রথম দিকে, যখন কলকাতার বটতলায় তাঁর গল্পের বই প্রকাশিত হতে শুরু করে। সেইসব কাহিনিতে দেখা যায়, নদীয়ার মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজসভায় উপস্থিত এক বুদ্ধিমান বিদূষক নানা সমস্যার সমাধান করছেন, হাস্যরসের মাধ্যমে গভীর সত্য তুলে ধরছেন এবং রাজাকে বিপদ থেকে রক্ষা করছেন। ফলে তিনি হয়ে ওঠেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অন্যতম প্রিয়পাত্র।

কিন্তু এখানেই শুরু হয় ইতিহাসের সংশয়।

অনেক ইতিহাসবিদের মতে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় ‘গোপাল’ নামে কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির প্রমাণ কোনো সমসাময়িক দলিলপত্রে পাওয়া যায়নি। গবেষকরা যখন গোপালের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করতে শুরু করেন, তখন একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসে। তাঁর জন্মসাল জানা যায় না, জন্মস্থান সম্পর্কেও কোনো নির্ভরযোগ্য নথি নেই। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা বলে পরিচিত হলেও তাঁর সম্পত্তি বা জমিজমার কোনো দলিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১৯২৯ সালে নিজেকে গোপালের বংশধর দাবি করে নগেন্দ্রনাথ দাস ‘নবদ্বীপ কাহিনী’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। সেখানে তিনি একটি বিশদ বংশলতিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী গোপালের প্রকৃত নাম ছিল ‘গোপাল ভাণ্ডারী’। তাঁর পিতা, পিতামহ এবং বড় ভাইয়ের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই গ্রন্থ নিয়েও বিতর্ক কম নয়। অনেক গবেষক ‘নবদ্বীপ কাহিনী’-কে প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থ হিসেবে স্বীকার করতে রাজি নন। কারণ, লেখক নিজেই নিজেকে গোপালের বড় ভাই কল্যাণচন্দ্র নাইয়ের সরাসরি বংশধর বলে দাবি করলেও নিজের পদবি ব্যবহার করেছেন ‘দাস’। ‘নাই’ থেকে ‘দাস’ পদবিতে পরিবর্তন কখন এবং কীভাবে ঘটল, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। যদিও তাঁর উত্তরসূরিদের দাবি, নগেন্দ্রনাথ নিজেই প্রথম পদবি পরিবর্তন করেছিলেন।

গোপালের পরিচয় নিয়ে নানা মত রয়েছে। নগেন্দ্রনাথ দাসের মতে, তাঁর নাম ছিল গোপালচন্দ্র নাই। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে রাজভাণ্ডারী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং ‘হাস্যার্ণব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ‘ভাণ্ডারী’ শব্দের অপভ্রংশ থেকেই নাকি পরে ‘ভাঁড়’ শব্দটির উৎপত্তি।

আবার অন্য এক মত বলছে, ‘নাই’ শব্দের অর্থ নাপিত। তাই গোপাল ছিলেন নাপিত বংশজাত। ভাষাবিদ ও ঐতিহাসিক সুকুমার সেনও এই মতের প্রতি আংশিক সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ভাঁড়’ শব্দটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ থেকেই নানা ব্যাখ্যার জন্ম হয়েছে। নাপিতদের ঐতিহ্যগত উপকরণ ‘ভাঁড়-ক্ষুর’-এর সঙ্গে শব্দটির সম্পর্ক খুঁজে অনেকেই গোপালের জাতিগত পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন।

তবে বাস্তব সমস্যা হলো, গোপালের কোনো সমসাময়িক প্রতিকৃতি পাওয়া যায় না। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তাঁর কাব্যে রাজা, রাজসভা এবং সভাসদদের বিস্তারিত বিবরণ দিলেও কোথাও গোপালের নাম উল্লেখ করেননি। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মহাফেজখানাতেও তাঁর অস্তিত্বের কোনো দলিল পাওয়া যায় না।

শুধুমাত্র একটি তৈলচিত্রকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে সংরক্ষিত সেই ছবিতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভার এক দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে একজন ব্যক্তিকে গোপাল ভাঁড় বলে দাবি করা হয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেই ছবিতে তাঁকে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়। কিন্তু ঐতিহাসিক মহলের একাংশ এই ছবির সত্যতা নিয়েও সন্দিহান।

আরও কিছু গবেষকের মতে, গোপালের আদি নিবাস ছিল হুগলির খানাকুলে। সেখান থেকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে রাজসভায় নিয়ে আসেন। তাঁদের যুক্তি, গোপাল ও তাঁর বংশধরদের কিছু ছবি একসময় রাজা রামমোহন রায়ের বাড়িতে সংরক্ষিত ছিল। কারণ, গোপালের বড় ভাই কল্যাণচন্দ্র নাকি রামমোহনের স্নেহভাজন ছিলেন। কিন্তু বাড়ি সংস্কারের সময় সেসব ছবির অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যায়।

    গোপালের অস্তিত্ব নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায় ঐতিহাসিক দীনেশচন্দ্র সেনের লেখায়। তাঁর ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘হাস্যার্ণব’ উপাধিটি আসলে কার ছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, ‘ভাঁড়’ শব্দটিকে কদর্থে না দেখে ‘বিদূষক’ অর্থে বিবেচনা করা উচিত।

গোপাল ভাঁড়ের প্রায় সমস্ত গল্পই আত্মজীবনীমূলক রূপে রচিত। ফলে গল্পগুলোর মধ্য দিয়েই তাঁর পরিবার সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। সেখানে তাঁর মা, স্ত্রী, কন্যা এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের উল্লেখ রয়েছে। নগেন্দ্রনাথ দাসের বংশলতিকায়ও সেই তথ্যের প্রতিধ্বনি দেখা যায়। বলা হয়, তাঁর একটি পুত্র ও একটি কন্যা ছিল। কন্যার নাম রাধারানী। তাঁর দুই নাতির নাম ছিল রমেশ ও উমেশ। তবে তাঁদের মধ্যে একজন অল্প বয়সেই মৃত্যুবরণ করেন।

গবেষকদের মতে, গোপাল কেবল কৌতুকপ্রিয় মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন ধর্মশাস্ত্রজ্ঞ, পুরাণ ও ভাগবত সম্পর্কে সুপণ্ডিত। রামায়ণ ও মহাভারত তাঁর প্রায় মুখস্থ ছিল। রাজনীতি ও সমাজনীতি সম্পর্কেও তাঁর যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। তাঁর বুদ্ধি ও কূটনৈতিক দক্ষতার সাহায্যে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র বহুবার নবাব সরকারের ক্রোধ বা বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। রাজা ও রানি তাঁকে সন্তানের মতো স্নেহ করতেন বলেও দাবি করা হয়।

২০০৪ সালে গবেষক সুজিত রায়ের লেখা ‘গোপাল ভাঁড়ের সন্ধানে’ প্রকাশিত হলে বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। তিনি দাবি করেন, কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিট সংলগ্ন রাধাপ্রসাদ লেনের একটি পরিবারই গোপালের প্রকৃত উত্তরসূরি। ওই পরিবারের সদস্য মলয়কুমার দাস, বিষ্ণুমাধব দাস ও শৌভিক দাসও নিজেদের গোপালের বংশধর বলে পরিচয় দেন। তাঁদের দাবি, ছোটবেলায় তাঁরা অন্তত ছয়টি তৈলচিত্র দেখেছেন, যেখানে গোপাল ভাঁড়কে আঁকা হয়েছিল। তবে অবহেলা ও সময়ের আঘাতে প্রায় সব ছবিই নষ্ট হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বংশধর সৌমিশচন্দ্র রায়ের বক্তব্য আরও দৃঢ়। তাঁর মতে, গোপাল কোনো কাল্পনিক চরিত্র নন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপালের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং রাজা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতেন। কিন্তু এতসব দাবি, পাল্টা দাবি, জনশ্রুতি ও কিংবদন্তির মধ্যেও একটি সত্য স্পষ্ট—গোপালের ইতিহাস আজও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। তাঁর জীবনের অধিকাংশ তথ্যই শোনা কথার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাস, লোককথা ও কল্পনার সীমারেখা এখানে এতটাই মিশে গেছে যে একটিকে অন্যটি থেকে আলাদা করা কঠিন।

সম্ভবত সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে পরবর্তী সময়ের বইয়ের প্রচ্ছদ ও চিত্রায়ণ। সেখানে গোপালকে প্রায়শই ভুঁড়িওয়ালা, টিকিধারী, অতি সাধারণ এক হাস্যকর মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ যদি তিনি সত্যিই কৃষ্ণচন্দ্রের সভাসদ হয়ে থাকেন, তবে তিনি ছিলেন বাংলার অন্যতম সম্মানিত রাজদরবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য—শুধু হাস্যরসিক নন, বরং জ্ঞান, কূটনীতি ও প্রজ্ঞার অধিকারী এক অসাধারণ মানুষ।

আজও তাঁর গল্প শুনে মানুষ হাসে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই মুগ্ধ হয় তাঁর বুদ্ধির ঝলকে। কিন্তু সেই মানুষটির বাস্তব মুখটি যেন কুয়াশার আড়ালেই রয়ে গেছে। হয়তো তিনি ছিলেন, হয়তো ছিলেন না। হয়তো তিনি একজন মানুষ, হয়তো বহু মানুষের কাহিনির সম্মিলিত রূপ। কিন্তু তাঁর গল্পগুলো যে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

রাজা নেই, রাজসভা নেই, বিদূষকও নেই। কিন্তু গোপাল আছেন। মানুষের হাসির মধ্যে, বুদ্ধির মধ্যে, ব্যঙ্গের মধ্যে, লোককথার মধ্যে। আর সেই কারণেই ইতিহাসের সমস্ত অনিশ্চয়তাকে অতিক্রম করে তিনি আজও বেঁচে আছেন—বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিদূষক হিসেবে।

      তবে এর একটা খোলা জানালায় চোখ রাখলে দেখতে পাব আরও একটি বিতর্কিত ও ভিন্ন মতের জগৎ। সেটা না লিখলে লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। 


     ‘শঙ্কর তরঙ্গ’ তত্ত্ব বাংলাপিডিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মত হলো—রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় ‘শঙ্কর তরঙ্গ’ নামে এক বুদ্ধিমান দেহরক্ষীর উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর সাহস, বুদ্ধি ও উপস্থিতবুদ্ধির জন্য তিনি রাজার অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। কিছু গবেষকের ধারণা, পরবর্তীকালে শঙ্কর তরঙ্গকে ঘিরে প্রচলিত কাহিনিগুলোই ‘গোপাল ভাঁড়’ নামে লোকমুখে রূপান্তরিত হতে পারে। 


উনিশ শতকের আগে গোপালের উল্লেখ প্রায় নেই গবেষকদের সবচেয়ে বড় যুক্তিগুলোর একটি হলো—অষ্টাদশ শতকে যদি সত্যিই গোপাল এত বিখ্যাত হয়ে থাকেন, তবে সমসাময়িক সাহিত্য বা দলিলে তাঁর নাম থাকার কথা। অথচ উনিশ শতকের আগে বাংলা সাহিত্যে গোপাল ভাঁড়ের প্রায় কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। 

     ইতিহাসে প্রায়ই দেখা যায় কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে লোকসমাজ ধীরে ধীরে অসংখ্য বুদ্ধিদীপ্ত গল্প জমা করতে থাকে। ফলে সেই চরিত্র একসময় ‘লোকনায়ক’-এ পরিণত হয়। গোপাল সম্ভবত তেমনই এক চরিত্র—যাঁর মধ্যে বহু মানুষের বুদ্ধি, কৌতুক ও অভিজ্ঞতার সম্মিলন ঘটেছে। বীরবল, তেনালি রামন ও নাসিরুদ্দিন হোজ্জার সঙ্গে তুলনা গোপালকে শুধু বাংলার চরিত্র হিসেবে দেখা হয় না। তাঁর গল্পগুলিকে প্রায়ই মুঘল দরবারের বীরবল, দক্ষিণ ভারতের তেনালি রামন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের নাসীরুদ্দিন-এর গল্পগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হয়। অর্থাৎ বিশ্বলোকসাহিত্যের ‘বুদ্ধিমান বিদূষক’ ধারার বাংলা রূপ হিসেবেও তাঁকে দেখা হয়। 




★ঋণ স্বীকার★


১. "নবদ্বীপ কাহিনী"

লেখক: নগেন্দ্রনাথ দাস


গোপাল ভাঁড় সম্পর্কে তথাকথিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জীবনীমূলক উৎস। গোপালের বংশলতিকা, পারিবারিক পরিচয় এবং ‘গোপালচন্দ্র নাই’ সম্পর্কিত তথ্য মূলত এই বই থেকেই এসেছে। তবে এর ঐতিহাসিক নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। 


২. "গোপাল ভাঁড়ের সন্ধানে"

লেখক: সুজিত রায়


সমসাময়িক গবেষণার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত গ্রন্থ। লেখক কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটের তথাকথিত উত্তরপুরুষদের সাক্ষাৎকার, তৈলচিত্র, পারিবারিক স্মৃতি এবং নানা দলিল ঘেঁটে অনুসন্ধান চালিয়ে গেছেন দীর্ঘকাল


৩. "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য"

লেখক:  দীনেশ চন্দ্র সেন


এই গ্রন্থে ‘হাস্যার্ণব’ উপাধি এবং বিদূষক-পরম্পরা নিয়ে মূল্যবান আলোচনা পাওয়া যায়।


৪. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস

লেখক: সুকুমার সেন


গোপাল ভাঁড়ের ‘নাই’ পরিচয়, ‘ভাঁড়’ শব্দের ব্যুৎপত্তি এবং লোকসাহিত্যিক চরিত্র হিসেবে তাঁর বিবর্তন নিয়ে আলোচনা রয়েছে।


৫. "মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়"

লেখক: নগেন্দ্রনাথ দাস


নবদ্বীপ কাহিনির তথ্যেরই বিস্তৃত সংস্করণ হিসেবে ধরা হয়। গবেষণার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, যদিও বিতর্কের অবকাশ অনেক তবুও মূল্যবান।

৬. "গোপাল ভাঁড়ের জীবন ও বৃত্তান্ত"

লেখক: চন্দ্রশেখর রায়


গোপালের জীবন, পারিবারিক পরিচয় এবং লোককথার উৎস অনুসন্ধানেরর চেষ্টা করেছেন এবং এই কাজে তিনি যথেষ্ট সফলও 

৭. "লোকসাহিত্য"

লেখক: আশুতোষ ভট্টাচার্য্য


বাংলা লোকসাহিত্যের কাঠামোর মধ্যে গোপাল ভাঁড়কে বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



৮. "বাংলার লোকসাহিত্য"

লেখক: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ


লোককথা ও লোকনায়ক সৃষ্টির ইতিবৃত্ত জানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক।

Post a Comment

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.